আমাদের ঐতিহ্যবাহী বাঘা মসজীদ রাজশাহীর বাঘা প্রাচীন স্থাপত্যের নিদর্শন সমৃদ্ধ অন্যতম দর্শনীয় স্থান। প্রায় ৫০০ বছরের পুরনো এ দেশের ৫০ টাকার নোটে ও জাতীয় জাদুঘরে সংরক্ষিত শাহী মসজিদ, সুবিশাল দীঘি, মহিলাদের প্রাচীন আন্দরমহল পুকুরের ধ্বংসস্তুপ, হযরত আব্দুল হামিদ দানিশ মান্দ এবং তদ্বীয় হযরত মুয়াজ্জেম দানিশ মান্দ শাহ্দৌলা ও ৫ জন সঙ্গীর মাজার ঐতিহাসিক ভ্রমণপ্রিয় ও ধর্মানুরাগীর জন্য এখনো এক আকর্ষণীয় স্থান। পদ্মার তীর ঘেঁষে গড়ে ওঠা ঐতিহাসিক গুরুত্ব সম্পন্ন ও স্থাপত্য কীর্তির প্রাচীন নিদর্শনটি দেশের অন্যান্য পর্যটন শিল্পের চেয়ে কোনো অংশেই কম সম্ভবনাময় নয়।
১৯৭১ সালে দেশ স্বাধীনের পর থেকেসরকারী এবং বিরোধী দলের প্রধানসহ বহু এমপি, মন্ত্রী, বাঘা’কে পর্যটন কেন্দ্রে হিসেবেগড়ে তোলার প্রতিশ্রুতি দিলেও আজ অবধি তার কিছুই বাস্তবায়িত হয়নি মসজিদ কম্পাউন্ডেই রয়েছে হযরত শাহ্ মোয়াজ্জেম শাহদৌলা দানেশ মন্দ (র.) সহ তাঁর সঙ্গী সাথিদের মাজার। ছবির মত সাজানো গুছানো যেন সব। গেইটের পাশে সাইনবোর্ড থেকে মসজিদ সম্পর্কে পেলাম নিম্নলিখিত তথ্য- ১৫০৫ খ্রিস্টাব্দে সুদূর বাগদাদ থেকেআগত হযরত শাহ্ মোয়াজ্জেম শাহদৌলা দানেশ মন্দ (র.) এর সম্মানে ২২.৯২ মিটার লম্বা এবং ১২.৭৮ মিটার চওড়া বাঘা মসজিদটি ১৫২৩ খ্রিস্টাব্দে নির্মাণ করেনসুলতান নাসির উদ্দিন নুসরাত শাহ রাজশাহী শহর থেকে ৪৫ কিলোমিটার পূর্বে পদ্মা নদীর তীরে প্রায় ২৫৬ বিঘা জমির ওপর প্রতিষ্ঠিত দর্শনীয় শাহী মসজিদ, সুবিশাল দীঘি ও অন্য আউলিয়াদের সমাধি স্থান, মূল দরগাহ্ সবকিছু। সমতল ভূমি থেকে প্রায় ৮-১০ ফুট উঁচু একটি বেদির উপরে এ মসজিদটি তৈরী করা হয়েছে।
এর দুপাশ দিয়ে দুটি বিশাল গেট রয়েছে। তৎকালিন বরেন্দ্র অঞ্চলের ঐতিহ্যকে টেরাকোটা তথা পোড়ামাটির কারুকাজের দেশজ নিদর্শন দিয়ে শাপলা ও লতা-পাতাসহ পর্সিয়ান খোদাই শিল্পে ব্যবহৃত হাজার রকম কারুকাজ। মসজিদটিতে রয়েছে ৫টি দরজা ও ১০ টি গম্বুজ, ৪টি ষৌচালা গম্বুজ, ভেতরে ৬টি স্তম্ভ, ৪টি অপূর্ব কারুকাজ খচিত মেহেরাব। দৈর্ঘ্য ৭৫ প্রস্থ ৪২, উচ্চতা ২৪৬, দেয়াল চওড়া ৮ গম্বুজের ব্যাস ২৪, উচ্চতা ১২।
বাঘার আরেকটি অন্যতম আকর্ষণ হচ্ছে সুবিশাল দীঘি। বাংলার স্বাধীন সুলতান আলাউদ্দীন হুসাইন শাহ্ ছেলে নাসির উদ্দীন নুশরত শাহ্ মসজিদের সঙ্গেই জনকল্যাণের নিমিত্তে খনন করেন এ দীঘি। শাহী মসজিদ ও মাজার সংলগ্নএ দীঘিটি ৫২ বিঘা জমির উপরে রয়েছে। প্রতি শীত মৌসুমে সুদুর সাইবেরিয়া থেকে এ দীঘিতে আগমন ঘটে অসংখ্য অতিথি পাখি। যা ভ্রমণবিলাসী মানুষের নজর কাড়ে।এখানে রয়েছে পিকনিক কর্ণার। প্রতি শীত মৌসুমে দেশের বিভিন্ন অঞ্চল থেকে হাজার হাজার মানুষ ছুটে আসে বাঘায়।
১৯৯৪ সালে স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদফতরের মাধ্যমে এটি পুনঃখনন করানো হয়। নতুন করে বাঁধানো এর ৪ পাড়ে লাগানো হয়েছে সারি সারি নারিকেল গাছ। ফলে বৃক্ষরাজি পরিবেষ্টিত দীঘি ও মসজিদের সৌন্দর্য্য বহুগুণে বৃদ্ধি পেয়েছে। ভ্রমণ বিলাসী মানুষের মন কাড়তে এই স্থানের কোন জুড়ি নেই।
যোগাযোগ
কপিরাইট&কপি;২০১০ সকল স্বত্ব ® সংরক্ষিত৷www.ourvillage.Wap.sh
যোগাযোগ:01744981525/01774002505 FB/Angryboy.rubel ইমেইলঃ
Rubel1525@gmail.com সরেরহাট,বাঘা,রাজশাহী ৷
Online : 1 user Today : 2 user Week : 2 Visitor